সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

সাহিত্যের আলো, শীত সংখ্যা ১৪৩২ (কবিতা বা ছড়া)

সুচিপত্র

১/ স্মৃতির নির্জন বেঞ্চি - সোমনাথ লাহা (কলকাতা)
২/ কোলাজ - তীর্থঙ্কর সুমিত (হুগলী)
৩/ একদিন বৃষ্টি - শিশির আজম (বাংলাদেশ)
৪/ স্বাধীনতা - সুশান্ত সেন (কলকাতা)
৫/ ঋতুচক্রের সাজ - প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী (উত্তর ২৪ পরগনা)
৬/ শীত - অমরেশ দাস
৭/ নীল আকাশ - ইমরান খান রাজ (বাংলাদেশ)
৮/ শীতের আমেজ - বিপুল কুমার ঘোষ (হাওড়া)
৯/ তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা  - রবীন বসু (কলকাতা)
১০/ মা - অভিজিৎ দত্ত (মুর্শিদাবাদ)
১১/ কল্পলোকের আহ্বান  - রথীন্দ্রনাথ বসাক (বোলপুর)
১২/ যুদ্ধ - প্রতীতি সরকার (রায়গঞ্জ)
১৩/ হিমেল বুড়ি - জাহাঙ্গির চৌধুরি (বাংলাদেশ)
১৪/ ইচ্ছে যখন - কতকী বসু (দক্ষিণ ২৪ পরগনা)
১৫/ রোজনামচায় খামচানো রক্তে - শিপ্রা এস রায় (ত্রিপুরা)
১৬/ মন যখন উদাসী - বিক্রমজিত ঘোষ (হাওড়া)
১৭/ শীতের দিনে - আবদুস সালাম (মুর্শিদাবাদ)
১৮/ নিবিড় ভালবাসা - আশীষ হাজরা (বাঁকুড়া)
১৯/ গিনিপিগ - সুশান্ত সেন (কলিকাতা)
২০/ জীবন যুদ্ধ - মলয় চক্রবর্তী (জলপাইগুড়ি)
২১/ ব্যাট-বল না থাকলেও - দীপক জানা (হাওড়া)
২২/ অন্ধকারের পথ - মোস্তাকিম প‌ঞ্চায়েত (বাংলাদেশ)
২৩/ এলো শীত - বদ্রীনাথ পাল (পুরুলিয়া)
২৪/ পারদে বৃষ্টি - অমিতাভ চক্রবর্ত্তী (কোচবিহার)
২৫/ শীতের কাব্য  - দেবপ্রিয় দাশ (কলকাতা)
২৬/ মানুষ -কাজল মৈত্র (নদীয়া)
২৭/ শৈত্যগোধূলির কবিতার পাতা - শ্রী সুজন 
২৮/ ভোরের আলো - শ্রবনা অধিকারী
২৯/ হ্যাঁ তুমি পুরুষ - রাজর্ষি রায় চৌধুরী 
৩০/ অভিমান - গৌতম সমাজদার (কলকাতা)
৩১/ বুড়ো অশোক - মৌসুমী মল্লিক (জলপাইগুড়ি)
৩২/ মূল্যবোধ - সৈকত প্রসাদ রায় (নদীয়া)
৩৩/ কুয়াশায় ঢাকা মন -প্রিয়াঙ্কা বসাক (শিলিগুড়ি)
৩৪/ গাঁয়ের টানেই এসো - বরুণ চন্দ্র পাল (বর্ধমান)
৩৫/ প্রমাণের ভাষা - দীপজয় সরকার (বর্ধমান)
৩৬/ শীত ও অভিমান - সমর গোস্বামী (পশ্চিম মেদিনীপুর)
৩৭/ সফলতা - সঞ্চিতা মন্ডল (হুগলী)
৩৮/ ফাঁকি - কাজল জানা (ঝাড়গ্রাম)
৩৯/ উষ্ণতার খোঁজ - কমল ঘোষ (পশ্চিম মেদিনীপুর)
৪০/ হয়তো - পারমিতা দাস (কলকাতা)
৪১/ বইমেলা  - অমিতাভ চক্রবর্তী (কোচবিহার)
৪২/ ধূম ধূষর - অলক মিশ্র (পশ্চিম মেদিনীপুর)
৪৩/ শীতের পিঠে - মহঃ আব্দুর রউফ (মুর্শিদাবাদ)
৪৪/ বড় ভাবনা আজ মনে - দেবব্রত কুনুই (বীরভূম)
৪৫/ কথা! - নজমুজ সাহাদাত গাইন (উত্তর ২৪ পরগনা)
৪৬/ প্রেয়সীর বিলাপ - রঞ্জন কুমার বণিক (আসাম)
৪৭/ শীতের কালে - সমর আচার্য্য (উত্তর দিনাজপুর)
৪৮/ শেষ থেকে শুরু - অরুণকুমার মান্না (হুগলী)
৪৯/ শিউলি ফুল - রিধিমা ঘোষ হাজরা (হুগলী)
৫০/ অবক্ষয় - মোঃ আব্দুল রহমান (মুর্শিদাবাদ)
৫১/ মিঠেল রোদের হাতছানি - বিমল চন্দ্র পান্ডা (পুরুলিয়া)
৫২/ শীত এসেছে মাঘে - রাজর্ষি মন্ডল (কলকাতা)
৫৩/ ঠিকানা বদল - আশীষ হাজরা (বাঁকুড়া)
৫৪/ জননীর দ্বারে আঁকি  রং মশাল - উত্তম কুমার ঘোষ (জলপাইগুড়ি)
৫৫/ নীরব উষ্ণতা -সাধন রায় (টাটানগর)
৫৬/ শীতের দেশ - বিক্রম সিংহ (উত্তর দিনাজপুর)
৫৭/ গ্রামের প্রতি ভালোবাসা - দিলীপ কুমার মধু (পূর্ব বর্ধমান)
৫৮/ শীত আসে - শৈবাল কর্মকার (উত্তর দিনাজপুর)
৫৯/ অভাব - প্রদীপ কুমার সিংহ (মালদা)
৬০/ ঈশ্বর দেখিনি কখনো - পারমিতা রায় (চেন্নাই)

--------///*///--------


স্মৃতির নির্জন বেঞ্চি
সোমনাথ লাহা (কলকাতা)

আস্তরণের মেঘটা চারপাশ জুড়ে
ক্রমশ কুয়াশা হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে
হাতড়ে বেড়াচ্ছি পথটা… যদি পাই ফিরে
পাইন গাছগুলোর গায়ে ঝুরো বরফের কুঁচি
হিমেল হাওয়া আষ্ঠেপৃষ্ঠে গ্রাস করছে আমায়
উষ্ণতার পরশ খুঁজে চলেছি পথের ধারে
ঝর্ণার শব্দ ভেসে আসছে কানে…
কুয়াশাটা ঘন হচ্ছে আর‌ও, কমছে দৃশ্যমানতা
তুমি কি সত্যিই হারিয়ে গেলে গভীর অতলে
তোমায় কেন দেখছি না হে প্রিয়তমা!
পাহাড়ের নির্জনতায় ফাঁকা বেঞ্চিতে বসে
তোমার গলায় শুনেছিলাম রবি ঠাকুরের গান
দূরে কোথাও হারিয়েছিলাম বোধহয়
এই পরবাসে আর থাকতে চাইছে না মন-প্রাণ।

--------///*///--------


কোলাজ
তীর্থঙ্কর সুমিত (হুগলী)

এখন আর সিঁড়ির দিকে তাকাই না
বেশ কিছুদিন আগে নদীর পাড় ভেঙে
নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছিলো হৃদ মাঝারে
সেই ক্ষত আজও...
ঢেউয়ে ঢেউয়ে মিশে যাওয়া সব অভিমান
অতীত কথায় ইতিহাস আঁকে
মোনালিসার হাসি ফিকে হতে হতে
আরও একটা 
"তুমি" নামের মূর্তি
অসমাপ্ত চিঠি খুঁজে নিতে চায়
ভালোবাসার কোলাজ।

--------///*///--------


একদিন বৃষ্টি
শিশির আজম (বাংলাদেশ)

বছরে একদিন বৃষ্টি আসে
আর সবকিছু ধুয়ে নিয়ে যায় কিছুই পড়ে থাকে না
ধুলোয় ফুলের রক্ত ধুলো হয়ে থাকে
বাতাসে জলীয় বাষ্প আর মরা সুতোর ঢেউ
তারা বলাবলি করছিল রং বিষয়ে
অথচ এখন তারা হা
যখন রং বিষয়ে লেখা প্রবন্ধটা
ছোঁ মেরে নিয়ে গেল চিলে
তারপর অন্ধকার
অন্ধকার মনে করিয়ে দেয় চরের কথা
নদীর কথাও
বৃষ্টি নেই আর বৃষ্টি নিয়ে ওরা কথাও বলে না।

--------///*///--------


স্বাধীনতা
সুশান্ত সেন (কলকাতা)

স্বাধীনতা কাকে বলে বুঝিনি এখনো ভাই
অদ্ভুত যুগে বাস করি ,
অবনত মস্তকে আদেশ পালন করা 
এই আজ স্বাধীনতা তাই ,
ভেঙ্গে ফেলো তার গড় এবং সকল 
বাধাগুলো দুইহাতে উপড়ে ফেল।

জীবনে তো ছন্দ নেই তাই সব ভাষা
ওলট পালট হয়ে কবিতার থেকে দূরে যায়।

গুটিকয় অদ্ভুত মানুষ 
সমস্ত ক্ষমতা ও ধনগুলো
কুক্ষিগত করে আনন্দ পাগল।

তুমি আমি সারাটা জীবন নিয়ে
কাজ খুঁজে যাই , অকাজের বোঝা বাড়ে।
অদ্ভুত কবিতা তাই লেখা হল
বৈদ্যুতিন তরঙ্গতে আজ ।

--------///*///--------


ঋতুচক্রের সাজ
প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী (উত্তর ২৪ পরগনা)

জীবনের গতি এক চক্রের অধীনে,
প্রকৃতির নীড়ে কত নতুন ছন্দ; 
ঋতুচক্রের সাজে অনন্য রূপে, 
শীতের রূপ গরিমার আলিঙ্গন, 
ডানা মেলে মুক্ত বিহঙ্গ চলেছে, 
বৈচিত্র্যের টানে নীল আকাশে; 
মিঠেকড়া অহমিকা সূর্যের কিরণে, 
নব আঙ্গিকে নব চিন্তাবাণীতে- 
নতুন সুরবিতানে শীতের সঙ্গীতবীথি ।।

--------///*///--------


শীত
অমরেশ দাস

কুয়াশার চাদরে মোড়া পৌষের সকাল, 
ভেঙে গেছে ঘুম, চারিদিকে হিমেল। 
মিঠে রোদ এসে পড়ে ঘরের দাওয়ার পরে, 
জড়ানো শরীর, অলসতায় দু- চোখ ভরে। 

ঝিম ঝিম হাওয়া বয় দিকে দিকে, 
শীতের বেতার বাজে কোন সে নিভৃতে। 
হঠাৎ কুয়াশার বুক চিরে সূর্যিমামা হাসে, 
আলতো ছোঁয়ায় রোদের পরশমাখা আসে। 

চায়ের ধোঁয়াটে গন্ধ, ধোঁয়া গরম চাদর, 
শীতের সকালে যেন চেনা পরশ। 
সবুজ গাছের পাতা ঝরে পড়ে যায়, 
শীতের রুক্ষতা প্রকৃতির গায়ে। 

খেজুর রস , নলেন গুড়ের পিঠের ধুম, 
শীতের আনন্দ দেয় ভরপুর। 
শীতের রাতে এক অদ্ভুত আবেশ, 
উষ্ণতা খুঁজে সবাই, মনে শুধু এক রেশ। 

সকালের ধোঁয়া,  দুপুরে মিঠে রোদ্দুর, 
সন্ধ্যাবেলার কুয়াশা, শীতের এ মোদ। 
শীতের দিনে এইতো সুন্দর ছবি, 
এই ঋতুতে কবি আর মনও সবি। 

--------///*///--------


নীল আকাশ 
ইমরান খান রাজ (বাংলাদেশ)

হিম শীতল ঠান্ডায় 
শীত এলো উঠোনে, 
খুকুমণি ঘুম ছেড়ে 
যায় চলে বাগানে। 

বাহারি সব ফুলের পাপড়ি 
কুড়িয়ে তোলে ঝুড়িতে, 
গন্ধ শুকে মন ভরে যায় 
মালা গাঁথে খুশিতে। 

শীতকালের রঙিন ফুলে 
সুরভিত হয় চারিপাশ, 
খুকুমণি উড়ে বেড়ায় 
অসীম ওই নীল আকাশ।

--------///*///--------


শীতের আমেজ
বিপুল কুমার ঘোষ (হাওড়া)

হেমন্তের অনুরনন মনে ছুঁয়ে যায় শীতের আগমনে..
পাখিদের কলতানে ঘন কুয়াশায় ঢাকা..
শিশিরে  চাদরে মোড়া সবুজ বাগিচায়..
পাতাগুলি ঝরে পড়ে শীতের আঙিনায়।

শীতের সকালে মেঠো পথ ধরে..
কৃষকের দল হাল-বলদ নিয়ে যায় চলে..
কানুমাঝির চায়ের দোকানে ভীড় জমে..
শীতের আমেজে এককাপ চায়ে চুমুক দিয়ে।

দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসে...
পাখিদের দল ঘরে ফেরার বাসনায়...
উত্তর থেকে দক্ষিণে যায় ভেসে...
ঘনজঙ্গলে মিটিমিটি প্রদীপের শিখা জ্বলে।

নিকানো উঠানে রমনীদের শঙ্খধ্বনি বাজে...
গ্রামবাংলার হৃদয়ে মননে...
অতীত ঐতিহ‍্যের মেলা প্রাঙ্গনে...
শীতের আমেজে বড়দিন ফিরে ফিরে আসে।

গীর্জায় গীর্জায় ঘন্টার ধ্বনি বাজে....
মঙ্গল কামনায় শপথের মালা গেঁথে....
আট থেকে  আশি মাতোয়ারা দেশবাসী....
শীতের আমেজে কম্বলে মুখ ঢাকি।

--------///*///--------


তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা 
রবীন বসু (কলকাতা)

কী করে সহ্য করো তুমি 
কী করেই-বা অবহেলা করো!
এত যে দহন, জ্বালা
আক্রমণ প্রতি-আক্রমণ 
চুল ছেঁড়াছেঁড়ি—
তবু অনায়াসে রয়ে যাও ঘরে!
কিছুটা চোখের জলের নিচে 
অসহ্য সহ্যের প্রলেপ—
একদম ভালো লাগে না।
তার থেকে দূরে যাও
ছিঁড়ে ছিটকে যাও—
একা হয়ে দেখি, তোমাকে ছাড়া 
বেঁচে থাকা কতটা কঠিন!

--------///*///--------


মা
অভিজিৎ দত্ত (মুর্শিদাবাদ)

মা একটি ছোট্ট শব্দ
অথচ এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে
কত গভীর মমত্ব।

মায়ের স্নেহ-ভালোবাসা থেকে
যারা হয়েছে বঞ্চিত 
জীবনটা তাদের কাছে 
এক নরকের মতো।

স্নেহময়ী মা এর হাত ধরে 
সন্তান বড়ো হয় ধীরে, ধীরে
সন্তানকে মানুষ করতে 
সহ‍্য করতে হয় মাকে
কতো দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা 
সবাই এর মর্ম বোঝে না।

মায়ের প্রতি যার যত ভক্তি
সেই সন্তান হয় ততোই কৃতী
মা যদি হয় আদর্শবান ও নীতিপরায়ন
তার সন্তান হবে ততো কতর্ব‍্যপরায়ন।

--------///*///--------


কল্পলোকের আহ্বান 
রথীন্দ্রনাথ বসাক (বোলপুর)
 
বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডের ওপার হতে, 
কল্পনার ওই ছায়াপথে, 
আসে নবভোরের আহ্বান— 
আমার জুড়োয় প্রাণ। 

চিন্তার মায়াজাল ছিন্ন করে, 
রঙিন আলোর পথটি ধরে, 
কে চেনায় স্বপ্নিল পাহাড়— 
বেজে ওঠে বীণার ঝংকার। 

সকল কাজ পিছনে ফেলে, 
উড়ে যাই হেথা, দু'চোখ মেলে, 
শিশির যেথা শুধোয় গান— 
এক নিঃশব্দ পরিত্রাণ। 

--------///*///--------


যুদ্ধ
প্রতীতি সরকার (রায়গঞ্জ)

প্রবল শীতকাঁপুনি
পায়ের অঙ্ক থেকে ক্রমশঃ উপরে উঠছে
বাকলে কাঁটা বিঁধিয়ে
অথচ তোষক-বালিশ পুড়ে যাচ্ছে তাপে।
আমার কপাল জুড়ে যখন দপদপে আগুন
তখন বাবা পাশে বসে জলপট্টি হাতে
মাও উদ্বিগ্ন চোখে বাবার সাথে।
নীরব স্নায়ুযুদ্ধে 
উষ্ণতাদের হারিয়ে
প্রায়শঃ বাবারাই যেতে।

--------///*///--------


হিমেল বুড়ি
জাহাঙ্গির চৌধুরি (বাংলাদেশ)

দেশে এলো হিমেল বুড়ি
অঘ্রাণ গেল ছেড়ে, 
শান্তি ছিল সবার মনে 
বুড়ি নিল কেড়ে। 

তরুলতার কাঁপ উঠেছে 
পল্লব ঝরার ভয়ে, 
মানুষ করছে দৌড়াদৌড়ি 
গরম কাপড় লয়ে। 

শীতে আছে পিঠার মজা 
খেজুরের রস সঙ্গে, 
সকাল বেলায় রোদে খেতে 
হরষ লাগে অঙ্গে। 

মাঠে মাঠে রবিশস্য 
ভিটামিনে ভরপুর, 
যত খাবে তত ভালো 
ব্যধি হবে সব দূর।

সর্দি কাশি জ্বরের প্রকোপ 
শীতে বাড়ে চরম,
বুড়ো বুড়ি শিশুর শরীর 
রাখতে হবে গরম।

--------///*///--------


ইচ্ছে যখন 
কতকী বসু (দক্ষিণ ২৪ পরগনা)

সময় হলে স্বপ্নগুলো ভাসিয়ে দেব কল্পনাতে 
কালের সাথে যাত্রা পথে দুরন্ত এক ঘূর্ণি সাথে 
নতুন কোন রাজ্য দেখে রাজার মত রাজা হয়ে 
সময় তখন জানিয়ে দেবে অজুহাতের নাগাল বেয়ে

উচ্ছসিত অনাদরে আদরগুলো হারিয়ে গেলে 
খুঁজে নেব আদরমাখা শব্দ ভাঙা পাথর ফেলে 
চরকিবাজি সময় সাথে অনেক কথা বলে দিলে
সত্যিগুলো খুঁজে নিয়ে মনের থেকে দূরেই ছিলে 
তাদের থেকে আমিও তখন লক্ষ যোজন দূরে চলে।

বুঝিয়ে দেব আমার কাছে আমিই এখন অনেক দামি 
ভাসিয়ে দেব একটা ডিঙি অতল জলে সাঁতার দিয়ে 
আলোর দেশে পরীর সাথে অজানা গান উঠব গেয়ে 
উল্টো পারে হওয়ার সাথে দুরন্ত এক শরিক হয়ে 
কিনে নেওয়া দুঃখগুলো ভোলার মত ভুলেই গিয়ে 

তারাও তখন আঙ্গুল খুলে দেখবে সময় গেছে বয়ে 
ইচ্ছে আমার স্বাধীনতার বিজয় ধ্বজা উড়িয়ে দিয়ে 
আপন করে ভালোবাসা নিজের কাছেই মূল্য পেয়ে।

--------///*///--------


রোজনামচায় খামচানো রক্তে 
শিপ্রা এস রায় (ত্রিপুরা)

রবি মামা ছবি হয়ে ভোরের 
ঘর থেকে বেরিয়ে 
আমাকে অবাক করে আবেশে 
জানলা খুলতে গিয়ে।

এঁকে চলা স্বপ্নেরা অবিরত 
ছুঁয়ে ছুঁয়েই যায় শিশির 
ফুটে ওঠে ফুল, লতা পাতা 
মনের ক্যানভাসে ভাবাতুর তিরতির। 

কিরণে ছড়িয়ে দিয়ে আলো, হাওয়াও বইলো 
ভোরের বৈভব শেষ, এখন আলোর তীব্রতা 
মগ্নতার বাড়া ভাতে ব্যস্ততার জল ঢাললো 
স্রোত বাড়ছে, বাড়তেই থাকে...

রোজনামচায় খামচানো রক্তে তিলতিল 
জমাট বাঁধতে থাকে মারণ রোগ--"একাকিত্ব"
সময়ের আগে দুঃসময় এসে করে কর্তৃত্ব। 

--------///*///--------


মন যখন উদাসী 
বিক্রমজিত ঘোষ (হাওড়া)

চোখের কোনে কালশিটে দাগ 
আর উদভ্রান্ত সব মনগুলো - 
যেন সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে 
সম্পর্কের সুতোগুলো ছিঁড়ে খানখান।
ভালবাসা হারিয়ে গেছে মন থেকে 
আকাশে উড়ে বেড়ানো পাখিগুলো দেখে 
দিন কাটাতে হচ্ছে।
জানালা দিয়ে বয়ে আসা বাতাস 
কিছুটা শান্তির বানী নিয়ে আসে - 
উদাসী মনে শুনশান সব পথে 
গাছের শুকনো পাতাগুলো ঝরে পড়ে, 
প্রবল ঝড় - বৃষ্টি অথবা হাল্কা রোদ্দুর 
প্রকৃতিতে জলছবি হয়ে আসে - 
চোখের নিচে কালশিটে দাগ 
একটু হলেও তখন স্বচ্ছ হয়ে যায়।

--------///*///--------


শীতের দিনে 
আবদুস সালাম (মুর্শিদাবাদ)

শীতের দিনে সকাল বেলা
কুয়াশার চাদর গায়ে
শিশির বিন্দু ঘাসের ডগার
জড়ায় পায়ে পায়ে।

খেজুর রসের সুবাস মেখে
পিঠেপুলি সাজে 
নতুন ধানের  সোঁদা গন্ধ
হিমেল বাতাসে।

গোলায় আসবে সোনার ফসল
লক্ষ্মী   মায়ের ছোঁয়া
নলেন গুড়ের মিষ্টি পায়েস
জয়নগরে মোয়া।

শীত মানেই বড়ো দিন
বনভোজনের পালা
এখানে সেখানে বাজবে ডিজে
কানটা ঝালাপালা।

সাজিয়ে পসরা কেকের মেলা
স্যান্টা টুপি মাথায়
বাঙালি আজ দিশেহারা
সৌজন্যের নেই বালায়।

--------///*///--------


নিবিড় ভালবাসা 
আশীষ হাজরা (বাঁকুড়া)

ক্ষুধার সাথে আলাপ হয়েছিল
সেই কোন ছোটবেলায় 
যখন ভালো করে কথা বলতে শিখিনি 
মা বলতো তোর বাবা ফিরে এলেই----
সেই যে আলাপ তাই নিয়ে কৈশোর পেরিয়েছি 
যৌবনে সম্পর্ক আরো নিবিড় হয়েছে 
তার ভালোবাসায় রঙিন হইনি
কেবল নীল হয়ে গেছি। 
ক্ষুধার সাথে বন্ধুত্ব আজও অটুট 
তার তীব্র হিংস্র কটু আক্রমণে জর্জরিত 
আমার অন্তর আত্মা, 
পড়শিদের থেকে আমার চৌকাঠ ধরে
নিত্য তার ঝোলাঝুলি 
বাপ মা তাড়ানো অবুঝের মত
হেথায় সেথায় তার অবাধ গতি,
কেউ দায়িত্ব নেয় না;
না রাষ্ট্র - না মানুষ - না সমাজ
তাইতো পথে পথে দিনরাত ঘুরে 
আমার প্রথম আলাপি 
আমার কাছে ফিরে আসে বারে বারে।

--------///*///--------


গিনিপিগ
সুশান্ত সেন (কলিকাতা)

গিনিপিগ কাটাছেঁড়া ময়নাতদন্ত
চুপিসারে ঘটে যাওয়া অপারেশন
খেলে দেওয়া রাস্তায় সদ্যজাত
এই সব নিয়ে বসবাস বেশ।

বেশ আছি ভাবলেই গা গুলানো
এবং বমি বমি ভাব।

গিনিপিগ গিনিপিগ গিনিপিগ
আর কতদিন আর কতকাল !

ত্বক ছিঁড়ে রক্ত - মাংস ও হাড় উঁকি দেয়,
কে কবে অন্যায় রুখতে পেরেছে ?

জানা গেল কে করেছে এমত স্খলন ? 

--------///*///--------


জীবন যুদ্ধ
মলয় চক্রবর্তী (জলপাইগুড়ি)

কখনো বৃষ্টি কখনো রোদ 
একি বিধাতার খেলা 
জীবনযুদ্ধে চলছে রেশ 
এ যেন বিচিত্র মেলা।

কখনো হাসি কখনো কান্না 
অভিনয় শুধু চলছে 
জীবন মানেই জয় পরাজয় 
একথা তাই বলছে।

হাসি আছে সাথে কান্না আসবে 
এটাই বোধ হয় যুদ্ধ।
মাঝে মাঝে তাই হয়ে যাই মোরা 
একটু বাকরুদ্ধ।

উত্থান আছে, আছে যে পতন 
রাত ভেঙে সকাল হবে 
অপেক্ষা তাই করে আছি মোরা
সেই দিনটির রবে,,,,,

--------///*///--------


ব্যাট-বল না থাকলেও 
দীপক জানা (হাওড়া)

ব্যাডমিন্টন নেই আমাদের 
তাইতো গাঁদা ফুল 
নিয়েই খেলি চুকুস চুকুস 
আনন্দটাই মূল। 

হাতের চেটো আমাদের সেই 
পরম প্রিয় ব্যাট
হারজিত নেই পয়েন্টও নেই,
নেই সে হাউস দ্যাট।

একটু খেলার পরেই ফুলের 
পাপড়ি ঝরে যায়,
আবার বড় পেয়েই থাকি 
ঘরের কিনারায়।

খেলার শেষে মায়ের ডাকে 
গরম খাবার পাই, 
শীতের দিনে আমাদের ভাই 
খুশির অভাব নাই।

--------///*///--------


অন্ধকারের পথ
মোস্তাকিম প‌ঞ্চায়েত (বাংলাদেশ)

মৃত্যুর পাশে দাঁড়িয়ে আমি চিন্তা করি, 
পথের বাঁকে খুঁজে পাই কি আশা শূন্য? 
বয়সের আছড়ে দিনগুলি যেন কেটে যায়, 
অপেক্ষার মাঝে হারিয়ে যেতে চায় একে একে। 

আলোর কাছে আসি, কিন্তু তবুও তেমনি ঘোর, 
পথে এসে দেখি নেই কোনো আলোর চিহ্ন। 
আকাশের পানে তাকালে মেঘে ভরে যায় মন, 
ভেজা চোখে দেখে কী আবার দেখতে পারি? 

এই পথে আর ফিরতে চাই না কোনোদিন, 
হাওয়ায় ভেসে যেতে চায় প্রতিটি চিন্তা। 
এক জীবন শেষে আরেকটি শুরু, 
তবে কোথায় হবে শেষের গন্তব্য জানি না। 

নদীর মত বয়ে চলে রাতের শূন্যতা, 
পাহাড়ের শীর্ষে কখনও ঢেউয়ের স্বর। 
মনের গভীরে যা রয়েছে, তা যেন খুলে যায়, 
জীবন যেন একদিন কেবল অন্ধকারে বাঁচে। 

শুধু শেষ বেলাটুকু দেখতে চায় চোখ, 
হৃদয়ের অনুভুতি কখনও বাঁচবে না শূন্যতায়। 
যদি কখনো ভরা আলো আসে এ পথে, 
তবে তাকে পাশে নিতে চায় একাকি মানুষ।

--------///*///--------


এলো শীত
বদ্রীনাথ পাল (পুরুলিয়া)

ধীরে ধীরে বয়ে যায় উত্তুরে বায়-
দাঁত নখ বের করে যেন কামড়ায় !
হিমের পরশ লাগে পাতা ঝরা গাছ
ভালো লাগে এসময় আগুনের আঁচ।

কুয়াশায় মুখ ঢেকে হচ্ছে সকাল -
একে একে দেখা দেয় সোয়েটার শাল।
সর্ষে গাঁদার ফুলে ভরা হলো মাঠ
শুনশান্ হয়ে গেছে আজ ফেরী ঘাট।

খেজুরের রস আর নলেনের গুড়-
শীতের মহিমা এতে আছে ভরপুর !
বইমেলা চড়িভাতি আর বড়দিন-
শীত আনে শিশুমুখে হাসি অমলিন।

মা'র হাতে গড়া পিঠে হরেকরকম-
রোদ পিঠ পেতে খাওয়া, মজাটা কি কম ?
ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালং, গাজর-
শীত এলে আসে যেন দেবতার বর !

--------///*///--------


পারদে বৃষ্টি 
অমিতাভ চক্রবর্ত্তী (কোচবিহার)

আচমকা বৃষ্টির মত আমারও প্রেম আসে, 
সূর্যের শরীর বেয়ে হেঁটে ক্লান্ত ষোড়শী মেয়ে 
আবার জন্মাও তুমি দুষ্প্রাপ্য গুল্মলতা থেকে ,
খুঁজে ফিরি ডুয়ার্সের মাতাল অরণ্যে।

তীব্রতার শব্দ নেই আছে একগুচ্ছ রং, আমাকে দোলাও আজ সেই শব্দের প্রবল বিক্রমে –
মেঘের শরমে তুমি এ বিশ্বকে চাতক বানিয়ে 
সুদীর্ঘ অপেক্ষায় আনো আমার শ্রাবণ।

রূপের কাঙাল যারা অরূপের মর্ম বোঝেনা, 
কারো কন্ঠে বিষ ঢেলে অমৃতের স্বপ্ন দেখাও! 

পঞ্চাশের পারদ আর একুশের অসহ্য প্রেমদাহ ,
রোদ্দুরে হৃদয় পোড়ে —
বৃষ্টি কখনো আসবে না ?

--------///*///--------


শীতের কাব্য 
দেবপ্রিয় দাশ (কলকাতা)

শীত আসছে  হিমেল হাওয়ায়, শীতকে ডাকি তাই,
শীত যে মোদের পরম বন্ধু, তুলনা তার নাই

শীতের কালে ভোরের শিশির, মিঠে রোদের ছোঁয়া
এই ঋতুতেই পিঠে- পুলি, জয়নগরের মোয়া।

জমিয়ে ঠান্ডা পড়লে যদি শরীরটা হয় কাবু ,
তবু এই শীতেতেই সার্কাস পার্টি ফেলবে মাঠে তাঁবু

শীত এগোলে জমিয়ে ঠান্ডা পড়বে জাঁকিয়ে
তবু প্রকাশকরা বইমেলাতে পড়বে ঝাঁপিয়ে।

শীত ঋতুতেই নানান প্রান্তে চলবে হরেক মেলা 
এখনই তো দেদার সুযোগ, জমিয়ে ক্রিকেট খেলা ।

মাতুন নলেনগুড়ের সন্দেশে আর বড়দিনের কেকে
লেপের তলায় শরীর সেঁকে জীবনটা নিন চেখে। 

এই ঋতুতেই বাঙালিদের বেড়িয়ে পড়ার হিড়িক
যার যেখানে মন ছুটে যায়, মান্ডু থেকে মিরিক।

শীতটা আসুক, জীবন জুড়ে মনে এবং প্রাণে
আনন্দময় হোক সবারই, ভালবাসার দানে।

--------///*///--------


মানুষ
কাজল মৈত্র (নদীয়া)

আমি যাকে মানুষ দেখি 
সেই ঘাস হয়ে যায় 

বিবর্ণ হলুদ শীতল মুখ 
স্থির দিগনির্ণয়ের মতো দুটো হাত 
বিষন্ন নগরীর ধূসর ধুলোয় 
লালসায় সব অস্পষ্ট হয়ে যায়

আমি যাকে মানুষ ভাবি 
সেই ক্রমশঃ দূরে চলে যায় ।

--------///*///--------


শৈত্যগোধূলির কবিতার পাতা                        
শ্রী সুজন 

হেমন্তের রাজপথ বেয়ে 
লিখলাম শৈত্যগোধূলির রূপকথা,
শিশিরভেজা কবিতার পাতায় 
প্রেমোন্মত্ত শীতের কাব্যগাঁথা ।

হৈমন্তিকা গিটারে বাজছে 
প্রেমবন্য শৈত্যসুর,
কুয়াশাঘেরা হৃদয়ের স্বরলিপিতে 
রোমান্টিক সুরসঙ্গমী সন্তুর ।

হেমন্তের আলো-আঁধারির জলছবিতে 
শুধুই প্রেমের কামনা,
প্রেম জোয়ারভাঁটার নকশি কাঁথায় 
শৈত্যমন্থনী আলোর ঠিকানা ।

হেমন্তের পাখির উড়ন্ত পাখনায় 
আজ যে প্রেমাভিসারী আমন্ত্রণ,
ঝরে পড়া পাতার বিছানায় 
সেই প্রেমরসেরই কাব্যআলিঙ্গন ।

বাসন্তিকা রংবর্ষনি মাদকতা 
যেন ফিরে এলো হৈমন্তিকা শৈত্যঝর্ণায়,
হেমন্তের প্রেমাহুতির উন্মত্ততা 
দোলা দিয়ে গেলো প্রেমশৈত্যবাসরের সোহাগবন্দনায়...

--------///*///--------


ভোরের আলো 
শ্রবনা অধিকারী

মরুভূমিতে ফুল এলো নিঃশব্দে 
দমকা ঝোড়ো হাওয়ার চলে 
যাওয়া সামলে নিয়ে 
বেঁচে উঠল আত্মিক সত্তা।
বসন্তের আগমনের বহু পূর্বে 
লেখা থাকে অন্তহীন শান্তির গাথা 
দিনলিপির কোল ঘেঁষে 
বেড়ে ওঠে গভীর প্রণয়।
শূন্য আঙিনা সেজে ওঠে 
হৃদয় সবুজ হয় ভোরের আলোয়
রোজনামচা নতুন করে লেখা হয়।

--------///*///--------


হ্যাঁ তুমি পুরুষ
রাজর্ষি রায় চৌধুরী 

হ্যাঁ, তুমি পুরুষ!
জীবনে যত যাই হোক তোমাকে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে।

যে ছেলে ছোটোবেলায় অন্ধকারে মায়ের আঁচল খুঁজতো, তাকেই সমাজের অন্ধকার দূর করার দায়িত্ব নিতে হবে।

মায়ের কাছে বই পড়তে শিখে, মা হারানোর পর সেই বইকেই একমাত্র সঙ্গী করতে হবে।

তোমাকে বোঝার মতো কাওকে পাশে না পেলে, রাত্রে কুকপাখি আর ঝিঁঝি পোকার ডাক তোমায় আপন করে নেবে।

ছোটোবেলায় মা-বাবাকে হারালে -বড়ো দাদাদের বোঝা হয়ে থাকতে হবে, গাধার মতো খাটুনি করে পেটে কিছু না পড়লেও মুখে রা কাড়া যাবে না।

পরিবারের দোহাই দিয়ে দীর্ঘদিনের প্রেমিকা হাত ছাড়লেও, তোমাকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য হাড়ভাঙা খাটুনি করতে হবে।
জীবনে হাজারো কষ্ট নেমে এলেও চোয়াল শক্ত করে বলতে হবে 'ভালো আছি'।

--------///*///--------


অভিমান
গৌতম সমাজদার (কলকাতা)

আধভেজা চাদরে চাঁদ,
তোমার এলোমেলো পোশাকে-
রঁদা কে মনে করিয়ে দেয়।
আলো আঁধারি তে স্নিগ্ধ পৃথিবী
তোমার প্রতি ইঞ্চিতে নিজেকে সৃষ্টি,
এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যায়-
ক্যানভাসে  পৌঁছয় না তুলি!
তোমার আধোঘুম  সারা শরীর জুড়ে,
ক্লান্তিতে এলিয়ে  পড়া মাথা-
শিল্পী ও কাঁধ খোঁজে!
নিরূপায় শিল্পী নিঃশব্দে মাথা
তুলে নেয় নিজের শরীরে।
ক্যানভাস, তুলি, রঙ সব
বিলীন হয় দিগন্ত রেখায়।

--------///*///--------


বুড়ো অশোক 
মৌসুমী মল্লিক (জলপাইগুড়ি)

কত ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে 
দাঁড়িয়ে আছে যুগ যুগ ধরে ,
বুড়ো অশোক গাছটি মন্দির প্রাঙ্গন জুড়ে।
কত ঘটনার সাক্ষী হয়ে 
ভাঙ্গাগড়ার অন্তরালে ,
বলতে চায় কত কথা নিরবতার ছলে।
যদি তুমি কান পেতে শোনো একটিবার 
আনন্দ বেদনার স্মৃতি করবে সে উজার।

ছিল একদিন শিশুটি হয়ে 
ধরনী মায়ের কোলে,
আগলে রেখেছিল শঙ্কা হতে বুকে তারে তুলে।
সেই দিন হতে ধিরে ধিরে 
বেড়ে ওঠা বিধাতার অঙ্গনে 
শীতল ছায়ায় অভ্যর্থনা জানায় ভক্তের মনে।
কত জয় পরাজয়ের সাক্ষী হয়ে 
বয়সের ভারে সে বুড়ো,
প্রবল ঝড়ে কেঁপে উঠে বুক,ভয়ে থরথর।
আবার সে মাথা তুলে সব ঝঞ্ঝা পেরিয়ে 
যতদিন বুকে শ্বাস, মনে আশা 
বেঁচে থাকা তো তারেই বলে।

 --------///*///--------


মূল্যবোধ
সৈকত প্রসাদ রায় (নদীয়া)

মানুষ আজ যেন শুধু রক্ত - মাংসে গড়া,
শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট শুধু গায়ের জোরে পরা।

লোভের আগুনে পুড়িয়ে চলেছি সবুজ বন,
ধ্বংসের নেশায় ভুলেছি প্রকৃতি আমাদের প্রিয়জন।

ক্ষমতার খেলায় মুখ ঢেকেছে মানবতা,
অসহায়ের কান্না জাগাতে পারে না মনে মমতা।

ভেঙে দাও যত প্রাচীর যা গড়েছে বিভেদ রেখা,
মনীষীদের শিক্ষায় হোক জীবনের মূল্যবোধ শেখা।

শিক্ষার প্রদীপ জ্বালাও যা আলো দেবে অন্ধকারে,
ত্যাগের মন্ত্র শেখাও যা আনবে শান্তি সংসারে।

যদি হৃদয়ে নাই জাগে করুণার স্পর্শ,
তবে কিসের শ্রেষ্ঠত্ব কিসের এত হর্ষ ?

এসো হাতে হাত রেখে গড়ি এক নতুন ভুবন,
যেখানে প্রেমই হবে আমাদের একমাত্র রতন।

--------///*///--------


কুয়াশায় ঢাকা মন
প্রিয়াঙ্কা বসাক (শিলিগুড়ি)

আজ যেন কেমন মন খারাপের দিন,
ঠিক যেমন শীতের রাতের অন্ধকারের নিস্তব্ধতার মত;
আমার মন আজ শান্ত, নির্বাক ।।

আমি যখন চারিদিকে তাকিয়ে দেখি–
সবাই শীতের আমেজ উপভোগ করতে ব্যস্ত,
আমার মন তখন শীতের কুয়াশায় ঢাকা।।

মনকে খুশি করতে পারি না কিছুতেই!
সে বড্ড অবুঝ–
একটু বেদনাতেই যেন কেমন অভিমানী হয়ে ওঠে।।

মাঝে মাঝে মনে হয়,মনেরও বোধহয় বয়স হয়েছে 
সে এখন আর কিশোরী  নয়,
অস্থির হয়ে ওঠে, কিন্তু চঞ্চলা হয় না।।

এই মনকে বোঝানো ভারি শক্ত,
শুধু খুঁজে বেড়ায় একটু আশার আলো,
যেমনটা শীতের এক ফালি রোদ্দুর।।

আমার অনেক সুসময় ও দুঃসময়ের সাক্ষী সে–
আমার কাছে আমার মন কেমন বটবৃক্ষের মতো,
অনেক ভার সয়ে প্রতিবাদহীন মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

--------///*///--------


গাঁয়ের টানেই এসো
বরুণ চন্দ্র পাল (বর্ধমান)

কলকাতাতে যেওনা শীত ওখান দালানবাড়ি
লাগানো থাকে রুম হিটার রুখতে বাড়াবাড়ি! 

মরছে, সব ঋতুতে মরছে যারা
ফুটপাতেতেই বাস, 
গরিবগুলোকে আর না চেখে
করোনা সমূহ সর্বনাশ? 

বরং তুমি এসো গ্ৰাম পরিবেশে
অনেক স্বাধীনতা পাবে, 
জলভরা বিল, নদীনালা 
অরণ্যের ভেতর হাঁটতে হাঁটতে যাবে! 

মরাপাতা জ্বেলে আগুন পোহায়
রাখে শরীরী উত্তাপ সব, 
দেখবে এখান পউষে হাজারো মেলা
ডুব স্নানে সবার কলরব! 

ভিজে আঁচলেও নববধূ টেনে ঘোমটা
উঠছে সিঁড়ি বেয়ে, 
নো পরওয়া আশির হাসিবুড়িও কয় :
' ও লাতবউ দাঁড়া আসি টুকুন নেয়ে? '

খোলা মেজাজে খেলতে চাও যদি ঝোড়ো ইনিংস
ও শীত গাঁয়ের টানেই এসো, করবে তুমি ফিনিস? 
                              
--------///*///--------


প্রমাণের ভাষা 
দীপজয় সরকার (বর্ধমান)

আমি প্রতি মুহূর্তেই
খুঁজে ফিরি
বাস্তবতার গোপন দলিল।
যেখানে নমনীয়তা নেই
আছে গাঢ় এক রক্তাক্ত ইতিহাস।

শুধু,
হিসেব-নিকেশের উইল
আজ সময়ের আগুনে পুড়ে ছাই।
যেখানে মানুষ চুপ,
কথা বলে প্রমাণের এক জ্বলন্ত ব্যাকরণ।

--------///*///--------


শীত ও অভিমান
সমর গোস্বামী (পশ্চিম মেদিনীপুর)

হেমন্তের শেষ ভোরের সূর্যকিরণ ঘুলঘুলি দিয়ে জানান দেয় শীত এসে গেছে 

কুয়াশার গাত্রবস্ত্রের মধ্যে এক সুদূর রহস্য লোকের বার্তা থাকে জড়িয়ে 

লেপ তোষক বা ছেঁড়া কাঁথার উষ্ণ আলিঙ্গনে মগ্ন মন খুঁজে ফেরে অনুভবের শূন্যতা 

শিশিরের ঐশ্বর্য নিয়ে ডালিয়া গাঁদারা টলমল করে 

পৌষের ডালায় মূলা, সীম ,কপিরা আধো চোখে ভোরের শুক তারা দেখে 

চাষির দল মাঠ থেকে ফসল তুলে, ঘরে ঘরে নবান্নের আয়োজন, রংবাহারি আলপনা 

সরষে ফুলের শাড়ি পরে শীত যেন মটর শুটির ডোগার মত লাফিয়ে লাফিয়ে চলে 

বনভোজনের উন্মাদনা শীতের উষ্ণতা বাড়ায় 
শিরশিরে  হিমেল হাওয়ায় শুরু হয় রিক্ত শীতের পাতা খসানো
ঠিক যেন ঝেড়ে ফেলে দেওয়া তোমার অভিমান

--------///*///--------


সফলতা 
সঞ্চিতা মন্ডল (হুগলী)
      

নিজের মনে ভাবতে থাকো 
কোথায় তোমার ভুল? 
লক্ষ্য তখন তোমার কাছে 
হবেই সাকসেসফুল
কীসের এত ভাবনা তোমার ?
কীসের এত ভয়? 

"সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই " ৷
ব্যর্থ হবে, ভাঙবে তুমি,
হারবে তুমি যত ,
জানবে তখন সফলতা 
আসবে সময় মতো ৷

মানুষ মানেই ভুল হবে তার, 
কেউ পাবে না ছাড় ,
সত্য যতই হোক না কঠিন, 
ভয় পাবো না আর ৷

সরবো কেন লক্ষ্য থেকে?
আসুক যতই বাধা
লক্ষ্য আমার হবেই পূরণ, 
আসবে সফলতা ৷ 

--------///*///--------


ফাঁকি
কাজল জানা (ঝাড়গ্রাম)

আসা একা যাওয়াও একা
মধ্যিখানে বাসা বাঁধা।
শক্ত করে হাতটা ধরা
পরস্পরের নির্ভরতা।

মায়ার বাঁধনে দিন কেটে যায়
চড়াই উতরাই বেয়ে ,
স্বপ্ন জালে জড়িয়ে পড়ে
ভুলেই গেছি ফেরার পালা কবে?

হঠাৎ করে মোহ ভঙ্গ , প্রতিশ্রুতি ভেঙে
একলা একলা পাড়ি দেয় অন্য অচিনপুরে।
যে রয়ে যায় সেই বোঝে ফাঁকির এ কি জ্বালা 
পলে পলে দগ্ধে দগ্ধে জ্যান্ত লাশ হয়ে বেঁচে থাকা ।

কালের নিয়মে দিন চলে যায় 
থামে না তো কবু 
ঝাপসা চোখে জড়িয়ে থাকে 
সুখ দুঃখের স্মৃতি টুকু।

ভালোবাসা এসেছিল চুপিসাড়ে                    অধিকার নিয়েছিল সমস্ত হৃদয় জুড়ে।
যাওয়ার সময় জানিয়ে গেলো সবাইকে 
রেখে গেলো সব হারানো রিক্ত জগতে।

--------///*///--------


উষ্ণতার খোঁজ
কমল ঘোষ (পশ্চিম মেদিনীপুর)

জবুথবু শীতে নিঃস্বের পাশে
রোদ্দুর হয়ে আসো,
তবেই না তুমি বসন্ত প্রেমী,
মানুষকে ভালোবাসো। 
প্রেমের হাওয়া ঝরাক মনের 
জীর্ণ পাতাগুলো,
সবাই মিলে নাচো আর গাও,
শীতলতা টুকু ভুলো। 
মকরেতে ডুব দাও দেখি খুব,
হৃদয় যেন জাগে,
মকর তবেই স্বার্থক হবে
হৃদয়ের রং-রাগে।
শীতের পসরা দীনের দুয়ারে
পৌঁছে দিতে কি পারো?
পিঠাপুলি আর পায়েসের স্বাদ 
বেড়ে যাবে তবে আরো। 
মাদল বাজুক, বাজুক না খোল,
ভেদাভেদ উড়ে যাক,
এই শীতে ফুল ফুটুক মনে,
আমরণ তারা থাক। 

--------///*///--------


হয়তো
পারমিতা দাস (কলকাতা)

উত্তাল পৃথিবী যেন অন্ধকারে ঢাকা 
দিশাহীন জগতে আমার যাত্রা করা ।
মানবতার শেষ বানী শুনেছিলাম কবে
বিশ্বাসে মেলায় বস্তু তর্ক বৃথা হবে।
ভালোবাসার স্পর্শে ছিল জীবন খানা রাঙা
জীবনের প্রতি মুহূর্তে রামধনুর আনাগোনা ।
সারা জীবন বসন্ত থাকে না কারোর সাথে
নিঃশ্বাসে বিষ আছে তবে‌ভাবতে হবে ।
বিশ্বাসের দুটি হাত ছেড়ে চলে গেছে 
জানা সেই শপথের কথা মানুষ ভুলে গেছে ।
রঞ্জন অন্তর্ধান একটি বড় প্রশ্ন বটে !
ভালোবাসার বন্ধন কি লোকে এই ভাবে ছিন্ন করে
তৃষ্ণায় কাতর পাখি জলের খোঁজ করে 
চেনা পরিচিত মুখ গুলো আজ ও মনে পড়ে ।
বিশ্বাসঘাতকতার শব্দ ঘোরে বারে বারে
ও রঞ্জন আবার তুমি এসো জীবনে ফিরে।
জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তোমাকে খোঁজে বারে বারে 
চেনা পরিচিত রাস্তা গুলো তাকায় আড়ে আড়ে ।
গাছগুলো মাথা নেড়ে সেই সম্মতি জানায়
হয়তো রঞ্জন ফিরে আসবে কোন বসন্তের সময়।

--------///*///--------


বইমেলা  
অমিতাভ চক্রবর্তী (কোচবিহার)

পুরনো বইমেলার তাঁবু ঠেলে বেরিয়ে যায়
চেনা গল্প, পুরোনো লেখকের ছায়া;

রোগা কবিরা স্টলে দাঁড়ায়—
তাদের কণ্ঠে ফেব্রুয়ারিতেও বিষণ্ণ বসন্ত;

পাতা ওড়ার শব্দে নাচে নতুন ছাপা স্বপ্ন,
বাচ্চাদের হাসিতে বাজে বর্ণমালার ঢাক;

সারা শহরজুড়ে মুদ্রণের মেলা,
গন্ধে গন্ধে উড়ে আসে অক্ষরের কুয়াশা—

তবুও বোকা মন পড়ে থাকে
ছাড়ের দামে গল্প-সার্কাসে!

--------///*///--------


ধূম ধূষর
অলক মিশ্র (পশ্চিম মেদিনীপুর)

শত শত আশা বিশ্বাস,
যায় ঢেকে বিষ শ্বাস।
প্রেমের তাজা গোলাপ,
নিদারুণ ক্ষয়ে করে বিলাপ।
নতুন সুন্দর সৃষ্টি,
চোখের এক পশলা বৃষ্টি।
শীতের সকাল স্নিগ্ধ ভূধর,
ধীরে ধীরে ছায় ধূম ধূষর।
সভ্য ব্যস্ত দিনে,
ঘিরে ধরে দুঃখ দীনে।
সুখ সুখ খোঁজে সুখ,
সত্যি মিথ্যার অসুখ।
নির্লজ্জতার চেনা গন্ডী,
রাখে চিহ্ন মন শ্রীখন্ডী।।

--------///*///--------


শীতের পিঠে
মহঃ আব্দুর রউফ (মুর্শিদাবাদ)

শীতের কালে মিষ্টি পিঠে 
কে বানালো কে?
"খেতে ভালো" বলল খোকা
"আমায় একটি দে।"
মায়ের হাতের গরম পিঠে 
খেতে লাগে বেশ,
নানান স্বাদের পিঠে খেয়ে  
থাকে স্বাদের রেশ।
চিতুই পিঠে ভাপা পিঠে 
মজা করে খাই,
পিঠে খেয়ে আশ মিটে না 
আরো বেশি চাই।
নলেন গুড়ের ভাপা পিঠে 
দারুণ যে তার স্বাদ,
পাটিসাপটা তালের পিঠে 
যায়না কিছুই বাদ।
নানান স্বাদের এমন পিঠে 
পাইনা খেতে রোজ,
মা ছাড়া কে গড়লো পিঠে 
করতে হবে খোঁজ।

--------///*///--------


বড় ভাবনা আজ মনে 
দেবব্রত কুনুই (বীরভূম)

শীতঘুমে আচ্ছন্ন চাঁদ
দুঃস্বপ্নে বিভোর  সন্ধ্যাতারা 
চোখ-মুখে ঘুম লেগে থাকা চাঁদ 
বাঁকা চাহনিতে জ্যোৎস্না ছড়াচ্ছে |
বাতাসে বাড়ছে বিষ 
অরণ্য বেষ্টিত গাছ _গাছালি'র নীরব  যন্ত্রণা
মিশেছে  আকাশে_বাতাসে লোকারণ্যে |
চারদিকে অতৃপ্ত সুখহীনতার আঁশটে গন্ধে
দ্রুত ফুরিয়ে আসছে _
তোমার আমার টক টাইম !
মেঘের ভেলায় কথারা হাসছে আর  ভাসছে 
সাহারা থেকে চেরাপুঞ্জি |
তুমি আমি কেবল দেখছি 
আর ভাবছি
শুধু ভাবছি |

--------///*///--------


কথা!
নজমুজ সাহাদাত গাইন (উত্তর ২৪ পরগনা)

তোমার কথায় পাগল এ মন,
এ এক অমৃত বাণী।।
এখন আর সে কথা শুনতে পায়নে ,
অনেক দিন পার হয়ে গেল।।

সেই পুরানো কথা ,
যে কথা গুলো স্মৃতির পাতায়,
কথা গুলো কানে বাজে ,
বাস ,ট্রেন , অটোতে স্মৃতি হয়ে ।।

যেমন করে বসন্তের দক্ষিণা বাতাসে ,
ধান ক্ষেত তার মাথা দুলায়, 
তেমনি তোমার কথা গুলো
আমার কানে তরঙ্গায়িত হয় ।

গ্রীষ্মের ফুলের উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত রং 
যেমন মূখে হাসি আনে,
মনকে উজ্জীবিত করতে পারে
তেমনি তোমার কথা আমার মনকে আনন্দিত করে।

আমি চাই শুধু একটু কথা শুনতে ,
জানি ,তুমি ঘৃণা করো আমাকে 
ওই ঘৃণা করো এই কথাটি নাই বলো।
তবুও বল কথা ।।

--------///*///--------


প্রেয়সীর বিলাপ
রঞ্জন কুমার বণিক (আসাম)

অসময়ের কালো মেঘ চাঁদ আড়াল করে, দিগন্তে গিয়ে মিশে,
অশ্রুবারিধারায় অভিমানী প্রেয়সী মুখ লুকোয় আপন দিশে ।
প্রতিশ্রুতির আঙ্গুরীয় অনামিকায় ঘটায় স্মৃতির রক্তপাত,
হিম হয়ে যাওয়া পাঁজরে হঠাৎই অবিরাম কষাঘাত।
বধির হয়ে যাওয়া এ পৃথিবীতে বৃথাই আমার রোদন,
ক্লান্ত আমি, অবিরত বেজে চলে ধুক ধুক হৃদস্পন্দন । 
শুকোয়নি এখনও খোঁপায় বেঁধে দেওয়া তোমার রক্তকরবী,
পথ চেয়ে চেয়ে সাঁঝ বেলায় মনে পড়ে শুধু অচিনপুরের ছবি ।
সাক্ষী তরু, ছায়াতলে ক্লান্ত হয়ে যেদিন ছিলাম বাকরুদ্ধ,
আগুনে রোদ টলাতে পারেনি, আমি যে তোমাতে অবরুদ্ধ ।
ঘন বাদলে, ঝড়ে, ঘাতে প্রতিঘাতে স্খলিত হৃদয় অন্তর্যামী,
পূর্ণিমার আলোর চ্ছটায় ভেঁসে যেতাম তুমি আর আমি ।

--------///*///--------
                                                

শীতের কালে
সমর আচার্য্য (উত্তর দিনাজপুর)

শীতের কালে সর্ষে ফুলে 
বসে মধুপ দলে,
মন খুশিতে ফুলের মধু 
খেয়ে নেচে চলে।

শিউলি চাচা রসের হাঁড়ি 
 কাঁধে করে নিয়ে,
থরথরিয়ে কাঁপতে কাঁপতে
ছোটে আলপথ দিয়ে।

করিম চাচার নলেন গুড়ে
পিঠে পায়েস করে,
পিঠটি দিয়ে মিষ্টি রোদে 
খাবে পেটটি ভরে।

বনভোজনে মাতবে সবাই 
দেখবে মেলা খেলা,
ফুড়ুৎ করে কেটে যাবে 
শীতের ছোট্ট বেলা।

--------///*///--------


শেষ থেকে শুরু 
অরুণকুমার মান্না (হুগলী)

এসো, চাঁদ ভেঙে পড়ার আগে মুখোমুখি দাঁড়াই
শেষ জ্যোৎস্নাটুকু মেখে নিই নিঝুম বারান্দায়। 
এরপর কোন গান, কাব্য থাকবে না পৃথিবীতে
চাঁদের রূপকথা শুনতে শুনতে
জ্যোৎস্না শেষ হলে
তুমি সূর্যের দিকে হাঁটবে, আমি অন্ধকারে-----

আর যদি দেখা না হয়
বসন্ত না আসে 
ব্যক্তিগত কবিতার অক্ষরগুলো থেকে যাবে অন্ধকারেই, 
পাশাপাশি স্বপ্নরাও। 

পাখিরা সোনালি ধান ঠোঁটে নিয়ে উড়ে যাবে
কোন শান্ত গাছের নিবিড় ছায়ায়, 
পদ্ম শালুক খুব ভোরে চোখ মেলে সূর্য বন্দনায় মগ্ন
তুমিও ওদের দলে এক বুক শুদ্ধতা নিয়ে
প্রহর গুণবে নতুন উৎসবের। 

তখন আমার জীবাশ্ম থেকে 
জেগে উঠবে যন্ত্রণার ক্ষীণ অগ্নিশিখা! 
তোমাকে জড়াতে চাইবে আষ্টেপৃষ্ঠে, পোড়াতে চাইবে
যাবতীয় অলংকার, রূপ, ক্রমশ পার্থিব শরীর। 
শেষ থেকে শুরু হবে আবার না হয়! 
 --------///*///--------


শিউলি ফুল
রিধিমা ঘোষ হাজরা (হুগলী)

শিউলি ফুলের মত ঝড়ুক মুগ্ধতা
স্পর্শ করুক আলতো মাটির ওপর
নিস্তব্ধতার মাঝে পড়ুক স্বরনে তোমার
আমার বিনম্রতা,
কিছু অকারনে পড়ুক মনে
কারন খোঁজার জন্য
বেলা শেষে আবার যাব হারিয়ে
শিউলি ফুলের মত
দেব না কোনো সুযোগ অভিযোগ করার জন্য
হয়তো তোমার অবহেলা দলিয়ে দেবে আমাকে অজান্তে
যেমন করে পায়ের নীচে দলিয়ে যায় শিউলিফুল
শেষে গিয়ে মিশে যাব
আলতো মাটির উপর
আশা রেখে যাব ফিরে আসার শুধুমাত্র
বসন্ত আসার আগে পর্যন্ত।

--------///*///--------


অবক্ষয় 
মোঃ আব্দুল রহমান (মুর্শিদাবাদ)

যে মেয়েটি একসাথে খেলেছিল 
এক পথে হেঁটেছিল 
পাশাপাশি গান গেয়েছিল
প্রতিধ্বনিত হয়েছিল আনন্দের বুকে ঢেউ 

সেই মেয়েটির আজ বুক কাঁপে 
হৃদয়ে মোচড় লাগে 
বড়ো বড়ো চোখ দেখে, দেখে উন্মাদ মূর্তি 
তীক্ষ্ণ নখের আকর্ষণ পিছু টানে 

হেমন্তের ঘ্রাণ মেঘে বসন্তের ফাগুনে 
দেখে কেবল শীতের ধূসর কুয়াশা!

--------///*///--------


মিঠেল রোদের হাতছানি 
বিমল চন্দ্র পান্ডা (পুরুলিয়া)

শিশিরভেজা হিমেল শীতে 
কনকনে বাতাস বহে দখিনা।
মিঠেল রোদের প্রহর গোণে 
আমার পল্লী মায়ের আঙিনা।

ওই মিষ্টি মধুময় রোদ্দুরে 
ভাসে খেজুর গুড়ের সুবাস।
প্রভাতী গানের সুরধ্বনি শুনি 
হলুদ গাঁদায় সাজে চারপাশ।

এসো প্রিয়, কথার মালা গাঁথি 
মিঠে রোদমাখা ওই উঠোনে।
শীতের প্রেমে ডাকি তোমায় 
মিত্রতার আলপনা আঁকি মনে।

--------///*///--------


শীত এসেছে মাঘে
রাজর্ষি মন্ডল (কলকাতা)

সোঁদরবনের বাঘে 
লাফ দিয়ে আজ উঠল চড়ায় 
র‍্যাপারখানির খোঁজে
কিন্ত মানুষ ভয়েই পালায়
সেসব কি আর বোঝে?

কাঁচুমাচু মুখে
নিদারুণ এক দুখে
হালুম করে ডাক ছেড়ে দেয়
মনের যত ক্ষোভে

রায়বাঘিনীর উদার হৃদয়
ভুলিস কিসের লোভে?

গুটিগুটি পায়ে 
উঠল সে বাঘ না'য়ে
মাঝি মাল্লা হল্লা জুড়ে
ঝাঁপ দিয়েছে জলে 
সেই না'য়েতে বাঘ বাবাজী 
জঙ্গলে যায় চলে।

--------///*///--------


ঠিকানা বদল
আশীষ হাজরা (বাঁকুড়া)

যদি হঠাৎ কোন একদিন হারিয়ে যাই 
নিখোঁজ ডায়েরি করো না 
কাগজে নিরুদ্দেশ বিজ্ঞাপন লিখে লাভ নাই প্রতিদিন কত হারিয়ে যায় 
কত শিশু কত নারী কত অসহায় 
খোঁজার অতো লোক পাওয়া যাবে কোথায় ।
ফিরে আসার আশায় বসে থেকো না 
এই অস্থির পৃথিবীর কোন কোণে 
শান্তির চাদর গায়ে নির্জনে শুয়ে থাকি না,
কোন এক দরিয়ার তীর ঘেঁষে 
মাটিতে ধুলোবালি মেখে 
মনে করো ঠিকানা বদল করে আছি বসে,
একেই আকাশ একেই তারার তলদেশে 
তুমি আমি আমরা সব দিন রাত্রি 
কেমন একা একা চলেছি নিরুদ্দেশে ।
ঠিকানাটা সবাই জানে তবু খুঁজে পায় না
পরস্পর কাছেই থাকি তবু দেখা হয় না 
জমানো কথাগুলো আর বলা হয় না ।
এক বিন্দুতে সব পথ মিশে আছে
  তবুতো সকলে মরছি ঠিকানা খুঁজে।।

--------///*///--------


জননীর দ্বারে আঁকি  রং মশাল
উত্তম কুমার ঘোষ (জলপাইগুড়ি)

ফাগুনের এই ধুলো মাখা পথে, 
মাইফলক পুঁতে যাবো।
বাহারি ফুলের রং জ্বলে গেলে 
আকাশটা ঢেকে দেবো।

ধুলিঝড় যদি ওঠে বাতাসেতে 
সাগরেই পা ধুয়ে দেব, 
মরশুমে ফুল নাইবা ফুটুক 
পলাশেই রাঙিয়ে দেব।

হৃদয়ের অভিমান হোক না যতই, 
অভিমান ভাঙ্গিয়ে দেব। 
অশান্তির কালো মেঘ যদি ছেয়ে যায়
 শান্তির দূত হয়ে রব।

প্রকৃতির রুষ্ট হোক না যতই,
সবুজ বনানী হব।
ফাগুনের সাত রঙে আমি 
পৃথিবীটা রাঙিয়ে দেবো।

--------///*///--------


নীরব উষ্ণতা
 সাধন রায় (টাটানগর)

কুয়াশার ভোরে দাঁড়ালেই মনে হয়—তোমার উষ্ণ হাত আমার হাতের ভিতরে,
সেই স্পর্শে শরীর–মন এক অদ্ভুত জাগরণ অনুভব করে।
শিশিরে ভেজা বাতাসও তখন তোমার গন্ধ বহন করে আসে 
নরম, পরিচিত, আর প্রাপ্তবয়স্ক আকাঙ্ক্ষায় ভরা এক সুর নিয়ে।

রোদ্দুরের প্রথম সোনালি রেখা গিয়ে পড়ে ত্বকে—
যেন তোমার আঙুলের আদর নীরবে ছুঁয়ে যায় আমাকে।
পুরো শীতজুড়ে তোমার অনুপস্থিতি আমার ভিতরে
আস্তে আস্তে গড়ে তোলে তোমার জন্য এক তীব্র আকুলতা।

--------///*///--------


শীতের দেশ 
বিক্রম সিংহ (উত্তর দিনাজপুর)

কিচিরমিচির ডাকি ডাকি 
হেথা ওথা চড়ুই পাখি 
গ্রামের লোকে করছে দেখো 
ধানের ক্ষেতে কাটাকাটি।

মাঠ ভরেছে সোনার ধানে 
রঙ লেগেছে চাষীর প্রাণে 
ফসল ভরা গরুর গাড়ি 
চলছে ধীরে নেচে গানে। 

শিশির ঝরে পাতায় পাতায় 
ব্যাঙ দেখিনা ব্যাঙের ছাতায় 
জোনাকিরা হাত গুটিয়ে 
ঘুম দিয়েছে পাতাল পাড়ায়। 

পথের ধারে পুকুর পাড়ে 
শাপলা শালুক ডাকে কারে? 
আয়রে আমার সোনার খুকী 
সোনার হাসি দিয়ে যারে। 

শীতের দেশে ভারী মজা 
পিঠে পুলি মুড়ির মোয়া 
সরষে খেতে মায়া কেমন! 
মন যে আমার যায় যে সোজা। 

--------///*///--------


গ্রামের প্রতি ভালোবাসা 
দিলীপ কুমার মধু (পূর্ব বর্ধমান)

বিলাস কান্তি ফি রবিবার 
কোথায় যেন যায় 
বিলাস কান্তি নিজে থেকে 
সে কথা জানায়।

আয়ুর্বেদিক শাস্ত্র শিখতে 
বৈদ্যবাটি যায় 
গ্রামবাসীকে বাঁচাবে সে 
নিবিড় পাহারায়। 

গ্রামের থেকে অসুখ বিসুখ 
সবই তাড়াবে 
থাইরয়েড বা সুগার-টেনশন 
সবই সারাবে।

দশ বিশ রকম টোটকা শিখে 
গ্রামবাসীদের বলে-- 
এই টোটকা মেনে চলো 
সুস্থ-সবল দলে। 

গ্রামের প্রতি ভালোবাসা 
বিলাসকান্তির যা 
ষাট--সত্তর বছরেও 
কেউ দেখলো না। 

--------///*///--------



শীত আসে 
শৈবাল কর্মকার (উত্তর দিনাজপুর)

শীত আসে শিশির ভেজা ঘাসে 
পাখি ডেকে ডেকে সারা ,
শীত আসে ঠান্ডা হাওয়া উত্তুরে 
ঘুমিয়ে আছে সকালবেলা।

শীত আসে শিউলি লুকায় মুখ 
চোখ বুজে শীতঘুমে ,
শীত আসে গাঁদা খুলে চোখ 
মিঠু রোদের স্নানে।

শীত আসে গরম চা চুমুকে 
বার্ধ্যকের শরীরে রোমাঞ্চ জাগে,
শীত আসে খেজুর রসে
মনে মত্ততা লাগে।

শীত আসে বর্ণিল সোয়েটারে
ভিড় জমে শপিং মলে,
শীত আসে নতুন বইয়ের গন্ধে 
বইমেলার স্টলে।

শীত আসে খোলা আকাশের নীচে 
বস্তিরা জেগে থাকে রাস্তায়,
শীত আসে ভোরের বাঁকা সোনালী রোদে 
উদাসী বাউলের একতারায়।

--------///*///--------


অভাব
প্রদীপ কুমার সিংহ (মালদা)

এই ক্ষণে আছি হেথা পরক্ষণে নাহি
বিধাতার বাঁধনে মোরা সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী।
যন্ত্রাংশের নেই শেষ নিজ হাতে গরি
নিমেষে কোষ দূরে চাঁদে দিচ্ছি পারি।
গাছ কাটা কম্পিটিশন দূষণে ভরি ঝুড়ি
প্লাস্টিক বৃষ্টি ভবিষ্যৎ সৃষ্টি নিশ্চয়ই জানি।
প্রকৃতির ছোবলে অভিশাপ হল জারি
বন্যার জল কোলাহল ছিরল মনো ডরী।
অর্থ সাজাই কোষছি বসে পাল্লা দাড়ি
ক্ষুধার্তে অশ্রু ঝড়ে রাজা হয় সুখী।
ত্রুটির ফল ভুগতে হবে সকলেই মানি 
ভবিষ্যতের নতুন ধারায় বাচি কি মরি।
হিংসার স্রোত বয় পাড়ায় অলি গলি
জ্ঞান বিকাশে আগুন জ্বলে হই ক্ষতি।
ধর্মকে বলি রূপে বিকাসিত দেশ গড়ি
প্রাণ হয়েছে সস্তা দরদাম লাখ কোটি।

--------///*///-------- 


ঈশ্বর দেখিনি কখনো 
পারমিতা রায় (চেন্নাই)

ঈশ্বর দেখিনি কখোনো, তবে বিশ্বাস করি, 
মানুষের মধ্যেই ঈশ্বর বিরাজমান।
করিনি কোনো কুকাজ, 
রাজনীতি করে হাঁড়িতে ফোটাতে চেয়ে চাল
রঙকানা হয়ে এখন বেহেড মাতাল।
মিটিং -মিছিলে খুঁজে নুড়ি ও পাথর
আড়ষ্ট ঠোঁটে গায় জীবনের মিথ্যে জয়গান ।
গাছে গাছে টাঙানো রসিকতার কবিতা দেখে, মিথ্যেই তাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রসিকতা ভাবে।

আজ রাস্তায় পড়ে আছে সে-
এরকম কতোদিন ছিল,কেই'বা জানে!
এখন তার মুখে বিষন্ন রক্তের দাগ
তাল তাল রক্তপিণ্ড দলা বেঁধে আছে বুকে, বহু কষ্ট বেঁধে বুকে।
সময়প্রবাহে লালকনিকা নীলচে কালো হয়ে যায়
শত্রুপক্ষও এসে শিউরে ওঠে!

ঈশ্বরকে কোনদিন প্রশ্ন করিনি 
তিনি কোন্ দলের - আর কতটুকু, পেয়েছেন তিনি , আর কতোকাল বা পেতে চলেছেন তিনি।
রাস্তা থেকে মর্গে গেলে লাশ 
সুবিচার হয় কি সংসদে?
"নিশ্চিত কোথাও কোনো ভুল থেকে গেছে", ভুলের পর ভুল হয়ে গেছে, এই ভুলের কি শেষ নেই।
এই বাক্যে সিংহাসনে মানুষের খেলা চলে।
মানুষে মানুষে হিংসা চলে।
চাই এক নির্ভুল পৃথিবী 
ঈশ্বরের কাছে চাই এক নিষ্পাপ পৃথিবী, সবুজে ভরা পৃথিবী।

--- শেষ ----

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা : কবি মানেই রবি, কলমে : পিনাকী রঞ্জন পাল

রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীতে আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য :  আজও যখন শব্দ খুঁজে পাই না, কোনো অজানা ভোর এসে কানে কানে বলে - “লিখে ফেলো, ভয় কিসের?” ...