সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

লেখক পরিচিতি : শব্দের ভেতর মানুষের খোঁজে — পিনাকী রঞ্জন পাল

লেখক পরিচিতি
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের চলমান স্রোতে যাঁরা নীরবে, কিন্তু দৃঢ়তায় নিজের জায়গা তৈরি করে নিচ্ছেন, পিনাকী রঞ্জন পাল তাঁদের অন্যতম। গল্প, কবিতা, শিশু সাহিত্য, লোককথা কিংবা রহস্য–রোমাঞ্চ— নানা ঘরানায় সমান স্বচ্ছন্দ এই লেখক মূলত পরিচিত তাঁর সহজ ভাষায় গভীর কথা বলার ক্ষমতার জন্য। শব্দের কারুকার্যের চেয়ে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন অনুভবকে; তাই তাঁর লেখা দ্রুত পৌঁছে যায় পাঠকের মনের কাছে।

জলপাইগুড়ির পূর্ব অরবিন্দ নগরের বাসিন্দা পিনাকী রঞ্জন পাল পেশাগতভাবে সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চা— এই দুই ধারাকে সমান্তরালভাবে বহন করে চলেছেন দীর্ঘদিন। শহর ও মফস্বলের পাঠক— উভয় শ্রেণির কাছেই তাঁর লেখার গ্রহণযোগ্যতা সমান। এর কারণ, তাঁর গল্পে শহুরে বাস্তবতার পাশাপাশি রয়েছে গ্রামীণ লোকজ জীবনের গন্ধ, আছে মানুষের দৈনন্দিন সুখ–দুঃখের চেনা ছবি।

লেখালেখির পাশাপাশি সাংবাদিকতায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। উত্তরবঙ্গ সংবাদ এবং দৈনিক বসুমতী পত্রিকায় একসময় নিয়মিত লেখালেখি করেছেন। বর্তমানে তিনি “জলপাইগুড়ি নিউজ” নামের একটি সংবাদমাধ্যম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত— যা ফেসবুক, ইউটিউব এবং ওয়েবসাইট— এই তিনটি মাধ্যমেই সক্রিয়। সাংবাদিকতার এই বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁর লেখাকে দিয়েছে দৃঢ়তা, সংযম এবং তথ্যভিত্তিক সচেতনতা, যা সাহিত্যিক লেখাতেও পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলেছে।

পিনাকী রঞ্জন পালের লেখালেখির জগৎ বহুমাত্রিক। কবিতা থেকে শুরু করে শিশু–কিশোর গল্প, লোককথা ও উপকথার পুনর্গঠন, সামাজিক গল্প, মনস্তাত্ত্বিক রহস্য, ভৌতিক ও থ্রিলার— প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজের স্বতন্ত্র স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। বিশেষ করে শিশু সাহিত্যে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তাঁর গল্পে নৈতিক বার্তা থাকলেও তা কখনোই উপদেশের ভারে ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে না। বরং গল্পের স্বাভাবিক প্রবাহেই শিক্ষার বীজটি রোপিত হয়।

ভাষা ব্যবহারে তিনি সহজ-সরল, কিন্তু প্রাণবন্ত। অতিরিক্ত জটিলতা বা দুর্বোধ্যতার প্রতি তাঁর কোনো আগ্রহ নেই। চরিত্রের আবেগময় বিকাশ, সংলাপের স্বাভাবিকতা এবং পরিস্থিতির বিশ্বাসযোগ্য নির্মাণ— এই তিনটি বিষয় তাঁর লেখার প্রধান শক্তি। ফলে তাঁর গল্পে পাঠক নিজেকে সহজেই খুঁজে পান।

প্রকাশিত গ্রন্থের তালিকায় রয়েছে আঁকড়ে ধরা বারণ (কাব্যগ্রন্থ), শেষ রাতের ডাক (অনুগল্প সংকলন), ষোড়শ রঙের গল্প ভুবন (কিশোর গল্প সংকলন) এবং লোককথা উপকথা— দেশ–বিদেশের লোককথার সংকলন। প্রতিটি বই-ই আলাদা স্বাদের, আলাদা পাঠকগোষ্ঠীর জন্য নির্মিত, তবু সব কটির মধ্যেই বিদ্যমান লেখকের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতেও রয়েছে বিস্তৃত সাহিত্যকর্ম। ইতিহাসভিত্তিক জল্পনায় জলপাইগুড়ি, একাধিক ভৌতিক গল্প সংকলন ও উপন্যাস, কাব্যগ্রন্থ, সিনেমা ও ক্রীড়া–ক্রাইম থ্রিলার, এমনকি ঐতিহাসিক রহস্য উপন্যাস ও গোয়েন্দা কাহিনির মতো বৈচিত্র্যময় কাজের প্রস্তুতি তাঁর সৃজনশীলতার ব্যাপ্তিকে স্পষ্ট করে।

পাঠক ও সমালোচকদের চোখে পিনাকী রঞ্জন পাল এমন একজন লেখক, যিনি মানুষের আবেগ, নৈতিক মূল্যবোধ ও সমাজের বাস্তবতাকে গল্পের ভেতর নিঃশব্দে তুলে ধরতে পারেন। তাঁর লেখায় থাকে শৈশবের স্মৃতি, অজানা রহস্যের টান, আবার কখনো সম্পর্কের সূক্ষ্ম মানসিক টানাপোড়েন।

নিজের লেখালেখি সম্পর্কে তিনি বলেন— “গল্প লিখি মানুষের সুখ–দুঃখ, আশা–নিরাশা আর স্বপ্নের আলো ছড়িয়ে দিতে। পাঠকের হাসি, বিস্ময় আর ভাবনাই আমার লেখার সর্বোচ্চ পুরস্কার।”


এই বক্তব্যই আসলে তাঁর সাহিত্যভাবনার মূল সুর।

যোগাযোগ

লেখক পিনাকী রঞ্জন পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে—
📍 ঠিকানা : পূর্ব অরবিন্দ নগর, জলপাইগুড়ি – ৭৩৫১০১
📧 ই-মেইল : pinakiranjanpaulwriter@gmail.com
📞 মোবাইল : ৯০৬৪১৪৩৬২৭

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা : কবি মানেই রবি, কলমে : পিনাকী রঞ্জন পাল

রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীতে আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য :  আজও যখন শব্দ খুঁজে পাই না, কোনো অজানা ভোর এসে কানে কানে বলে - “লিখে ফেলো, ভয় কিসের?” ...