রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

অনুগল্প (অম্বালিকা ঘোষ, সুমিতা চৌধুরী, কমল ঘোষ , অপরাজিতা কুণ্ডু, তাপস চট্টোপাধ্যায়, সুদীপ্তা চট্টোপাধ্যায়, সঞ্জয় বৈরাগ্য, অশোক কুমার ষন্নিগ্রহী, সামসুজ জামান, বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী)


বিজু আজ স্কুলে যাবেই 
সঞ্জয় বৈরাগ্য 

গত রাত থেকেই বিজু'র কাঁপুনি দিয়ে জ্বর। সারা রাত জেগে জলপট্টি দিয়ে দিয়ে কোনো রকমে জ্বরটা নামালেন সুমিত্রা দেবী, বিজুর বিধবা মা। 

বিজু'র যখন পাঁচ বছর বয়স, জ্ঞাতি সম্পর্কিত মোকদ্দমায় প্রায় বিনা বিচারেই তাদের যা যতটুকু ছিল, সবটুকুই চলে যায়। শোকে-দুঃখে অসুস্থ হয়ে মারা যায় বিজুর বাবা। তারপর থেকে পরের বাড়িতে কাজ করে, সেলাই করে অতি কষ্টে সংসার-নামক সমুদ্রের তরী টেনে চলেছেন সুমিত্রা দেবী। লক্ষ্য একটাই, তার সবেধন নীলমণি বিজু'কে মানুষের মতো মানুষ করে তোলা।

বেলা হতেই তিনি বিজু'কে বললেন, 'আজ আর জ্বর গায়ে স্কুলে যেতে হবে না বাবা, একদিন না গেলে এমন কিছু মহাভারত অশুদ্ধ হবে না।' 

দুর্বল শরীরে স্কুলের পোশাকটা পড়তে পড়তে ক্ষীণ কন্ঠে বিজু বললো- 'মা, তাহলে যে তোমার বিজু'র কপালে আজ আর ডিম, খিচুড়ি জুটবে না!'

একাধিকবার সেলাই করা স্কুল ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে বিজু রওনা দিলো স্কুলের পথে। নির্বাক হয়ে মা শুধু চেয়ে রইলেন সেদিকে আর সবার অলক্ষ্যে তার দু'ফোঁটা চোখের জল গড়িয়ে পড়লো মাটিতে।



দায়িত্ব 
সুদীপ্তা চট্টোপাধ্যায় 

বাবা মারা যাবার পর তনিমার উপর সংসারের সব দায়িত্ব  এসে পড়েছে। সদ‍্য পাওয়া নতুন চাকরি, আর বিধবা মাকে নিয়ে তার জীবন।

কলকাতার বুকে নেমে এসেছে কালো রাত। পথ শিশুরা ঘুমিয়ে পথ কুকুরদের পাশে। তনিমা অন্ধকার কলকাতার বুকে হেঁটে  চলেছে। বসের অর্ডার নাইট সিফট করতে হবে। চাকরিটা প্রাইভেট কোম্পানির। টিকিয়ে রাখতেই হবে তাকে।

তনিমা চিৎকার করে ওঠে। মানুষরূপী দুই জন্তু তনিমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে কামড় দেয়। অসহ‍্য যন্ত্রণা আর চিৎকার। কলকাতার বুকে ঘটতে থাকা  আর একটা ধর্ষণ। পথ শিশুদের ঘুম ভাঙে। কুকুররা ঘেউ ঘেউ করে। এতদিন  একসাথে ডাস্টবিনের খাবার খেতে খেতে, এক বিছানা ভাগ করতে করতে পথ কুকুর  আর পথ শিশুদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে  ওঠে।

পথ কুকুররা কামড়ে ধরে দুই মানুষরূপী জানোয়ারের পা।

পথ শিশুরা ছুটে যায় দিদি বলে। পুলিশ  আসে। মিডিয়া হৈ হৈ করে  ওঠে। সকালের পেপারে শুধু পথ কুকুর  আর পথ শিশুর বন্ধুত্বের খবর।

প্রতি মাসে মাইনা পেয়ে তনিমা কেনে বই খাতা, খাবার  আর প্রচুর বিস্কুট। মায়ের সাথে সাথে তনিমার এখন  প্রচুর দায়িত্ব।



একটি স্বাধীনতার গল্প 
তাপস চট্টোপাধ্যায় 

কাউন্সিলারের লায়েক ছেলেটা বাড়ি থেকে দামি বাইক নিয়ে  বেরিয়ে রোজকার মতো পাড়া কাঁপিয়ে তুলল কটকট্ ফটফট্ আওয়াজে। কানে আঙুল দিয়ে স্বগতোক্তি করল কেউ কেউ। অনেকেই চার দেওয়ালের মধ্যেই আস্ফালন করল হাত পা ছুঁড়ে। অতি উৎসাহী কেউ কেউ বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছেলেটির গতিপথ অনুসরণ করে রগড় দেখতে চাইল,  নতুন কিছু ঘটে কিনা । মেয়েটিও ঠিক সময়ে বেরিয়ে এসে মোড়ের মাথায় ছেলেটির বাইকে সওয়ার হল । বিশেষ কায়দায় পিছন থেকে চেপে ধরল ছেলেটিকে। তারপর দুজনে ভাসতে ভাসতে উড়তে উড়তে শহরের রাস্তায় গলিতে চক্কর খেতে খেতে  সকলকে সচকিত করতে করতে উধাও হল সন্ধ্যা নামার মুহূর্তেই। কেউ কেউ সাহস করে বলেই ফেলল মেয়েটির কি মা বাপ নেই ? যেন তারা ধরেই নিল ছেলেটি রামতুলসীর পাতা । অথবা ছেলেরা তো একটু আধটু অমন করেই থাকে-....…

একদা এক প্রভাতে খবরের কাগজের পাতায় পাতায় ,নিউজ চ্যানেলের এক্সক্লুসিভ খবরে, গুগলের ভাইরাল ভিডিওয় ছড়িয়ে পড়ল খবর। ফ্লাইওভার থেকে দ্রুত গতিতে নামার সময় বাইকটি একাই বহুদূর চলে গেছিল। মত্ত আরোহী দুজনকে দুদিকে ছিটকে দিয়ে মুক্তির সন্ধানে।


জীবন যেমন
অপরাজিতা কুণ্ডু 

প্ল্যাটফর্মে পা রাখতেই ট্রেনটা দুলে উঠলো। আচমকা ঝাঁকুনিতে ভারসাম্য হারিয়ে রায়া পড়েই যাচ্ছিলো, একটা বলিষ্ঠ হাত সামলালো তাকে। টি-স্টলটার ছায়ায় এনে জলের বোতল এগিয়ে বললো, "এক্ষুনি কী বিপদটাই না ঘটতো বলুনতো, ম্যাডাম!" 

"প্রতিদিনই নামি...আজ ভিড়টা একটু বেশিই ছিল।"

"আপনি তো দিদিমণি ! প্রায়ই দেখি আপনাকে।"

অজান্তেই রায়ার গালদুটো লাল হয়।

"চলুন স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসি। এখনো কাঁপছেন।"

রায়ার খেয়াল হয় বলিষ্ঠ হাতের আঙুলগুলো এখনো তার কনুইয়ের কাছে নরম ভাবে ছুঁয়ে আছে। অচেনা অনুভূতিতে, সঙ্কোচে আপত্তি জানালেও তা ধোপে টেকে না।

রায়াকে কিছুতেই টোটোর ভাড়া দিতে দিল না শৈবাল। ইতিমধ্যে নাম-ফোন নাম্বার আদানপ্রদান, টুকটাক কথাও হয়েছে। ক্রমশই রায়া মুগ্ধ হয়েছে শৈবালের ভদ্রতা, যত্নশীল মনোভাবে।

প্রতিদিনই স্কুলে পৌঁছে মা'কে ফোন করে রায়া। আজ অনেক খুঁজেও ফোনটা পেল না। শৈবালের নাম্বার সেভ করার সময়ও ছিল। ওয়ালেটও নেই। ঘাম জমেছে গলায়। হাত দিতেই চমক। চেনটা নেই। 

আবার রায়ার গালদুটো রক্তবর্ণ ধারণ করে। এবার নিজের বোকামির জন্য। জীবনের প্রথম দুর্বলতা এমন প্রবঞ্চনা করবে, কে-ই বা জানতো !


সুমির সান্তা
কমল ঘোষ 

অভাবের সংসারে অসুস্থ বিধবা মায়ের ওষুধ কেনার টাকা নেই । ছোট্ট সুমির তাই বড্ড মন খারাপ । বাবা বেঁচে থাকা কালীন সুমি সান্তাকে লেখা তার চিঠি মোজার মধ্যে ভরে খোলা জানালার পাশে রাখত । চিঠিতে লেখা বস্তুটি সান্তা দুয়ারে নামিয়ে রেখে চলে যেত। বাবা মারা যাওয়ার পর চিঠি লিখে রাখলেও সান্তা আর আসে না। তবুও আশা ছাড়ে নি সুমি। এবার চিঠি আর মায়ের প্রেসক্রিপশনটা মোজায় ভরে রেখে দিল খোলা জানালার পাশে। উত্তুরে হাওয়ায় মোজা উড়ে গিয়ে পড়ল রাস্তায়। মোজাটা চোখে পড়ল সুরেনবাবুর। মোজার ভেতরকার প্রেসক্রিপশনটার ছবি তুলে নিলেন , চিঠিটা ঢুকিয়ে নিলেন নিজের পকেটে। তারপর প্রেসক্রিপশনটা ছুড়ে দিলেন দরজার কাছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দরজার সামনে মজায় ভরা প্রেসক্রিপশনটা পেয়ে সুমি বেশ খুশি হল। ও ভাবলো - সান্তা নিশ্চয় চিঠিখানা পেয়েছে। বড়দিনের সন্ধ্যায় দরজা খুলতেই দুয়ারে মিলল একটা বাক্স। বাক্সে ভরা অনেক ওষুধ আর বেশ কিছু নগদ টাকা। "মা দেখো, সান্তা তোমার জন্য কি দিয়ে গেছে!" বলতে বলতে বাস্কটা হাতে নিয়ে দৌড়ে গেল মায়ের কাছে।


মধুর বসন্ত এসেছে
সুমিতা চৌধুরী

দূর থেকে অফিস গেটের সামনে বহু মানুষের জটলা দেখেই বুকটা ধক্ করে ওঠে অরূপের। গত কয়েকদিন ধরেই একটা মৃদু গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গুজরাতে কারখানা উঠিয়ে নেবে মালিক পক্ষ। সেকথাই সত্যি হল আজ! সামনে ছেলের পরীক্ষা, দুমাসের বাড়ি ভাড়া, মালার চিকিৎসা...মাথাটা ঝিমঝিম করে অরূপের।

এমনিতেই ' দুপয়সা ঘরে আনার মুরোদ নেই " বলে মালা উঠতে বসতে কথা শোনায়। চাকরি গেছে জানলে বোধহয় ঘরেই ঢুকতে দেবেনা!

অনেকক্ষণ বাইরে কাটিয়ে যখন ঘরে ঢোকে, তখন রাত ন'টা। 

" আজ এত দেরী?" মালা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে জিজ্ঞেস করে। 

" আসলে, একটা কাজে আটকে....." কথাটা অসমাপ্ত রেখে ঘরে ঢুকে যায় অরূপ। 

হঠাৎই মালা এসে তার হাত আলতো করে ধরে। 

" তুমি কি গো? খবরটা আমায় জানালেনা? আমি তো মিসেস বোসের কাছে সবটা শুনেছি। সুখে, দুঃখে একসাথে থাকবো বলেই তো...." কান্নার দমকে মালার শেষ কথাগুলো আটকে যায়। 

" এই সেই মালা?" নিজের বউকেই সে ঠিকমত চিনতে পারেনি!  দুচোখ জলে ভরে যায় অরূপের। বসন্তের মাতাল হাওয়ায় আকাশ এখন পুরোপুরি 

মেঘমুক্ত।


মনকেমনের জন্মদিন
অম্বালিকা ঘোষ

'এগুলো সব নিয়ে যাব?',' হ্যাঁ, সব নিয়ে যাবি, সব তোদের', বছর দশেকের নান্টুর প্রশ্নে ওর মাথার চুলগুলো হাত দিয়ে ঘেঁটে পেস্ট্রির প্যাকেটটা ওর হাতে ধরিয়ে দেয় অরিত্র। চোখের তারায় ঝিকমিক আলো ফুটিয়ে নান্টু ওর বোন ঝিমলির হাত ধরে অপার খুশিতে ভাসতে ভাসতে তাদের বস্তির দিকে ছোটে। রাস্তার এপারে দাঁড়িয়ে সে দৃশ্যটা উপভোগ করতে থাকে অরিত্র। সকাল থেকেই বুকের বাঁদিকটায় কষ্ট জমছিল। জন্মদিন এলেই মনখারাপ হয়ে যায় অরিত্রর। এই দিনটাতেই দুবছর আগে মাকে হারিয়েছিল সে, তাই এই দিনটা এলেই অরিত্রর অসহনীয় লাগে। আজ বিকেলে বিক্ষিপ্তমনে উদ্দেশ্যহীনভাবে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল অরিত্র। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এককাপ চা খেতে খেতে অরিত্র হঠাৎ খেয়াল করে মলিন মুখে খাবারের দোকানের সামনে দাঁড়ানো দুটো বাচ্চাকে। নিজের অজান্তেই যেন ওদেরকে ডেকে ফেলে অরিত্র। ওদের সাথে আলাপচারিতায় মনের আকাশের মেঘটা যেন ধীরেধীরে কাটতে শুরু করে ওর। মাতৃহারা দুভাইবোনকে দুটো নতুন জামা কিনে দিয়ে হাতে তুলে দেয় সামান্য কিছু খাবার। মনখারাপের শেষে একটুকরো স্বর্গ রচনা করে অরিত্রর জন্মদিনের বিকেল।


ধোঁয়াশায় ঘেরা 
অশোক কুমার ষন্নিগ্রহী

মধ্যপ্রাচ্যে ভীষণ যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সবকটি শহরে ড্রোনের আক্রমণে বোমা পড়ছে। অতর্কিতে রকেট মিসাইল নিক্ষেপ হচ্ছে। ছোট্ট ছেলেটি মায়ের আঁচলে ভয়ে লুকিয়ে আগুনের বর্ষা দেখছে। গতকাল তাদের পাশের উঁচু বিল্ডিংটিতে বোমা পড়ে সব তছনছ হয়ে গেছে। বহুলোক হয় মৃত নয় আহত। ছেলেটির বাবা উদ্ধারের কাজে হাত লাগাতে সকাল থেকে গেছে।

মা ছেলেকে কোলে নিয়ে বলছে ভয় পাসনি বাবা, আমাদের কিছু হবেনা। ছেলেটি অবাক চোখে মাকে দেখছে। দুপুরে রান্না হয়নি, তাই খাওয়া জোটেনি। মায়ের হাত কেমন কাঁপছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। হঠাৎ একটা ড্রোন তাদের মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গেই বোমা বর্ষণ শুরু। একটা বোমা বিস্ফোরণ ঘটলো ওদের খুব কাছে। সবাই যে যেদিকে পারলো দৌড়ালো বাঁচার আশায়। ছেলেটিও মায়ের হাত ছাড়া হয়ে দৌড়াল। সারা জায়গা ধোঁয়াশায় ঘিরে গেল। কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছেনা। ছেলেটি ভয়ে কান্না ভুলে গেছে।

অন্ধকারে ছেলেটি মাকে খুঁজতে লাগলো। ভোর হলে দেখলো পাথরের আঘাতে তার মায়ের মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হয়েছে। মাকে ঠেলা দিলো, মায়ের সাড়া নেই।…..


চৈতন্যোদয়
সামসুজ জামান 

ঋতমের বিস্মিত চিৎকার- কুকুরকে খাওয়ানোর থালায় ঠাকুমার খাবার‌ ? আশ্চর্য!

মা-বাবার গর্জন- দুদিনের ছেলের মুখের উপর কথা? তুমি শেখাবে আমাদের ?

রোজই পুনরাবৃত্তি- গোলার নিচে রেখে দেওয়া কুকুরের থালায় ঠাকুমাকে খেতে দেওয়া! সেটা লক্ষ্য করতে করতে ঋতম অবসাদগ্রস্ত ও অসহনীয় যন্ত্রণা বোধের শিকার।

বেশ কিছুদিন রোগভোগের পর ঠাকুমা দেহ রাখলেন। কুকুরটাও মারা গেল আজ। 

 ঋতম যত্ন ক'রে থালাটা  তুলে রাখতেই , মা-বাবা হই-হই করে উঠলো- কুকুরের থালাটা তো ছুঁড়ে ফেলে দিতে বললাম, ফেললে না কেন ওটা?

 ঋতমের তড়িৎ জবাব- না মা, থালাটা আমার বড় প্রয়োজন।  তোমরা অথর্ব হয়ে গেলে, ওই থালাটাতেই তো তোমাদের খেতে দেবে  তোমাদের নাতি! 

মায়ের কন্ঠ থেকে হাহাকার - বাবা! একি যুগ এলো গো? যে ছেলেকে এত আদর যত্নে বড় করলাম, সে কিনা কুকুরের খাওয়ানোর থালাটা রাখছে আমাদের খেতে দেবে বলে? 

ঋতম হাত জোড় করে বলল- ক্ষমা করো আমাকে! তোমাদের এতদিনের দেওয়া শিক্ষা কে গুরুত্ব দিয়েই তোমাদের মর্যাদা রাখার জন্য এই ব্যবস্থা! 

চোখ বড় বড় করে বাবা-মা গালে হাত রাখল! 


মায়ের বলা কথাগুলো 
বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী 

" আমি তো চিরকাল বেঁচে থাকব না। তাই বেঁচে থাকতে যা বলি  মন দিয়ে শুনে রাখ। " 

কথাগুলো বলে রণিতের মা অবাধ্য ছেলের দিকে অনেক আশা নিয়ে তাকালেন। মৃত্যু শয্যায় শুয়ে রয়েছেন রণিতের মা প্রমিতা। 

ডাক্তার আট চল্লিশ ঘন্টার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে চলে গেছেন শেষবারের মতো রুগী দেখে। 

ক্রমশঃ ফুরিয়ে আসছে প্রমিতার আয়ু।  তিনি যে মারা যাবেন তা তাঁর মরণাপন্ন অবস্থা দেখে অনুমান করতে পারছে রণিত।

ওর অবাধ্য শরীরটা ঝুঁকে পড়েছে মায়ের মুখের ওপর। দু' চোখের অশ্রু বাধা মানতে চাইছে না। বাবা তো কবেই ধরাধাম ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছেন। মা'ও এবার তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন পরলোকে। 

এতদিনের পর রণিতের হুঁশ হয়েছে সে মায়ের ওপর কত অত্যাচার করেছে।  মা' র কথা কখনো শোনেনি। মা' র মৃত্যুর পর আর তো মা কিছু বলবে না। হা-হা শুন্যতায় কানে বাজবে না মায়ের কথাগুলো। 

" মা , মা , বল কি বলবে। আর কখনো তোমার অবাধ্য হব না মা। " রণিত ভেঙে পড়ে।

কিন্তু প্রমিতার কন্ঠস্বর স্তব্ধ হয়ে যায় চিরকালের মতো।  রণিত মায়ের না শুনতে চাওয়া কথাগুলোই  কি আন্দোলিত করবে মনের ভিতর।  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কবিতা : কবি মানেই রবি, কলমে : পিনাকী রঞ্জন পাল

রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীতে আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য :  আজও যখন শব্দ খুঁজে পাই না, কোনো অজানা ভোর এসে কানে কানে বলে - “লিখে ফেলো, ভয় কিসের?” ...