এই এক সন্ধিক্ষণ...
উত্তম কুমার ঘোষ
অন্তরালে বিলুপ্ত হবার পালা।
মেহগনির পাতাঝরা আর বসন্ত বাউরির ডাক,
...যেন নিঃশ্বাস ফেলে সায়াহ্নে ।
চৈতির কোন এক হাওয়ায় চুরমার নিষিক্ত বীজ গুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে ....
মিলন বেলার মরশুমে নানা কীটের উচ্ছ্বাস,
ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতি আবার জেগে উঠে ছেলেবেলায়....।
স্বপ্ন ভাঙার ফানুস কেড়ে নেয় সব সুখ।
প্রাকৃতিক হিংস্রতার যাঁতাকলে হাত ধুয়ে এই বৈশাখেই প্রকৃতি আবার সাজবে... নদ পড়ে
নূপুরে - নিক্কনে,..সোনার মুকুটে।
আসবে নতুন এক সকাল নিঃশব্দে, আনন্দে, আহ্লাদে সোনালী স্বপন রচিত হবে নতুন নব ঘনের
রেনেসাঁসে।
কোকিল কথা
প্রগতি দে চৌধুরী (ব্যাঙ্গালোর)
কিশোরী হাওয়ায় বসন্ত পলাশ গালে আলতো আবীর
আমার যাপন নিকষ রাতে মেঘলা আকাশ শান্ত ধীর।
দিনগুলি সব ওলটপালট, যখন তখন ঝাঁপটা দমক
আগুন রঙ্গের কৃষ্ণচূড়া চোখের তারায় হঠাৎ চমক
হাওয়ার হাতে ঘুড়ির লাটাই কে আর রাখে এতো খোঁজ
দিনের বেলা অল্পকথা রাতের গায়ে গল্প রোজ।
বুক খোলা শার্ট বিকেল বেলায় গলির মোড়ে যাই ই হোক
কোকিল কাঁধে বসন্ত পালক তীর ঘোর প্রতারক
আবার আসবো যাই এবার অভ্যাসে এই মিথ্যা বুলি
আসছে বছর কেউ আসেনা মফস্বলের এই গলি।
দিনগুলো সব ডুবতে থাকে সাক্ষী থাকে নদীর তীর
আমার যাপন নিকষ রাতে মেঘলা আকাশ শান্ত ধীর।
থেকে যেও
ছন্দা দাম (আসাম)
থেকে যেও বুকের কাছাকাছি সারাক্ষণ
এ জটিল আঁধারে দূরে যেতে নেই,
ডাহুকের মতো ঘাসডোবা সরোবরে
কেউ নেই....যার কোন ক্ষত নেই।
থেকে যেও রিঙটোন যেমন মুঠোফোনের
বুক বাড়িতে জড়িয়ে মায়াময়
কচুরিপানার এ জীবন জলাভূমিটাতে
কারো না কারো বুকে বেঁচে থাকতেই হয়।
থেকে যেও আধো আঁধারির দরজায়...
ভেজানো, এখনো সেটা কেউ আসবে বলে,
এ জীবন আজীবন ভালোবাসার শুধে
বেদনার মুলধন কেনা না জানি কোন কৌশলে।
থেকে যেও, থেকে যেতেই তো হয়...
প্রাণের কাছে যে জাপটে ধরে রাখে ভালোবেসে ,
ভেজা ঝুপ্পুস চিরকুটে ঝাপসা সবটাই
মায়া ডাকে ডাকতে বলো কে আর ফিরে আসে।
থেকে যেও শুধু ভালোবাসি বলেই
এর থেকে বেশী আর কিসে মেটে তিয়াস,
জানি বুকে চুপটি করে আছে ঘুমিয়ে
লাভা উদ্গিরণ করবে ঘুমন্ত এই ভিসুভিয়াস।।
**********************
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন